Price:৳ 200, $ 10, £ 8
ISBN: 984 20 0039-7
Type: Hard
Page: 148
In Stock: Avilable

বানান : বাংলা বর্ণমালা পরিচয় ও প্রতিবর্ণীকরণ

এই বইতে আছে বাঙলা বানানের কতিপয় তাত্ত্বিক প্রশ্ন : বাঙলা বানান বিষয়ক আলোচনার গোড়ায় একটি তাত্ত্বিক সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে সংগুপ্ত আছে। সেই তাত্ত্বিক সমস্যাটির সমাধান না হওয়ার ফলে বানান-বিধি নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি অস্পষ্টতা থেকে যাচ্ছে। সহজ কথায় বলা যায়, বাঙলা ভাষায় শব্দের জাতবিচার সম্পর্কিত তাত্ত্বিক সমস্যাই বাঙলা বানানের নিয়মের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে। প্রথাগতভাবে বাঙলা শব্দকে পন্ডিতেরা ব্যুৎপত্তিগত দিক থেকে চার শ্রেণীতে বিভক্ত করেছেন। সেগুলো হচ্ছে, তৎসম, তদ্ভব, দেশী ও বিদেশী। কেউ কেউ আরো একটি বর্গ বৃদ্ধি করেছেন, তার নাম দিয়েছেন অর্ধ-তৎসম। এই বিভাজনের ভেতরে ভাষা-সংগঠনগত সৌসাদৃশ্য কতটা কাজ করে তা কখনোই সচরাচর তলিয়ে দেখা হয় না। তদুপরি, অনেক শব্দ আছে যে গুলোকে প্রথাগত চতুর্বর্গ কিংবা পঞ্চবর্গের আওতায় আনা যায় না। মনে করা যাক : ইংরেজী শব্দটি কি তৎসম শব্দ, তদ্ভব শব্দ, দেশী কিংবা বিদেশী শব্দ তা আমরা জানি না। ইংরেজী ভাষায় ইংরেজী শব্দটি নেই, আছে ইংলিশ। শব্দটি তৎসম নয়, তদ্ভবও নয়, বিদেশী তো নয়ই, তবে কি দেশী? ঠিক তেমনি ফরাসী শব্দটি কোন ভাষার শব্দ? সংস্কৃত নয়, তদ্ভব নয় তবে কি? অ-তৎসম বলে কোনো একক বর্গ নেই। এ ধরনের অনেক শব্দের জাত-বিচারের ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। ফলে তৎসম ও অ-তৎসম দ্বিভাজন () ব্যবহার করে যে বানানের নিয়ম বিধিবদ্ধ করা হয়েছে তা বিধান হিসেবে সঠিক হয়নি। বাংলা একাডেমীর বানানের নিয়মে এই ভ্রান্তি আছে, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্য পুস্তক বোর্ডের বানানেও এই ভুল আছে। পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমির বানানেও আছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বানানের নিয়মে তো ছিলই। আরো একটি সমস্যা বানান-সমস্যার সঙ্গে জড়িত, তা হচ্ছে প্রতিবর্ণীকরণের সমস্যা। ব্যাপারটি হচ্ছে বিদেশী শব্দের বানান বাঙলা বর্ণ দিয়ে করতে গিয়ে কোন্ নীতি মানা হবে তা সুনির্ধারিত নয়। প্রতিবর্ণীকরণের সঙ্গে বানান-বিধিকে গুলিয়ে ফেলে নতুন সমস্যার সৃষ্টি করা হয়েছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বানান সংস্কার কমিটিও এ ক্ষেত্রে স্পষ্ট পথ-নির্দেশ দিতে সক্ষম হননি। বাংলা বানান ও প্রতিবর্ণীকরণের ভেদরেখা পরিচিহ্ণিত করতে পারে নি কিংবা করেন নি। তৃতীয় বিষয়টি রাষ্ট্রীয় সংবিধান, ট্রেডমার্ক,প্যাটেন্ট, কপিরাইট সংক্রান্ত আইনী কাজে ভাষা-ব্যবহারের পরিসীমা অনির্ধারিত রয়েছে। এসব বিবেচনা না করেই বাঙলা বানান নিয়মবন্ধ করা হয়েছে। আর এসব ক্ষেত্রে ভাষা-ব্যবহার আর বানান সমতাকরণ কিংবা ভাষার বানানের নিয়ম তৈরী করার মধ্যে যে পার্থক্য আছে তা অনেকেই মানতে চান না।

Read More

Authors Details

Monsur Musa / মনসুর মুসা

এই বইয়ের রচয়িতা মনসুর মুসা ভাষাতত্ত্ব অধ্যয়ন করেছেন যুক্তরাজ্যে আর যুক্তরাষ্ট্রে, সিঙ্গাপুরে, দক্ষিণ কোরিয়ায় ; অধ্যাপনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাঙলা বিভাগে ; তারপর আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে। আধুনিক ভাষা ইনষ্টিটিউট-এর পরিচালক ছিলেন তিনি। দু বার তিনি বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক ছিলেন। তাঁর আগ্রহ আধুনিক ভাষাবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় ; সমাজভাষাবিজ্ঞানে, মনোভাষাবিজ্ঞানে এবং ভাষা-পরিকল্পনায়। মানুষের ভাষা-সমস্যা সম্পর্কে তিনি বহু প্রবন্ধ লিখেছেন। তুর্কীভাষা আন্দোলন, শ্রীলঙ্কার ভাষা-সমস্যা, আসামের ভাষাদাঙ্গা, বাঙলা ভাষা ও রাজনীতি, প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকের ভাষাতাত্ত্বিক মূল্যায়ন ইত্যাদি গবেষণামূলক প্রবন্ধ দেশে বিদেশে সুধীজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তাঁর প্রকাশিত অন্যান্য গ্রন্থ : পূর্ব বাঙলার উপন্যাস ১৯৭৪ ; ভাষা-পরিকল্পনা ও অন্যান্য প্রবন্ধ ১৯৮৪ ; ভাষা-পরিকল্পনার সমাজভাষাতত্ত্ব ১৯৮৫ ; বাংলা পরিভাষা : ইতিহাস ও সমস্যা ১৯৯৬ ; বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা ১৯৯৬ ; প্রয়োগিক ভাষাতত্ত্বের রূপরেখা (২০০০) The Ekushe : a Ritual of Language and Liberty\' \'Language Planning in Srilanka\', \'Problem of Language Planing in Pakistan and the birth of a new state.\' আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর লিখিত জীবনীগ্রন্থ : মুহম্মদ আবদুল হাই ; মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ; মুহম্মদ এনামুল হক। গ্রন্থ বিষয়ক গ্রন্থ : পাঠকের পাঠশালা। ভ্রমণ কাহিনী : জাপানের পথে ১৯৯৬। দক্ষিণ কোরিয়ার দিনগুলি। সম্পাদনা : বাংলা ভাষা ১৯৭৩ ; বাঙলাদেশ ১৯৭৪ ; মুহম্মদ এনামুল হক রচনাবলী (১ম - ৫ম খণ্ড)। বাঙালীর বাঙলা ভাষা-চিন্তা (১৯৯৪)। সংশোধক : জাপানী-বাংলা প্রয়োগ অভিধান ১৯৮৯। যৌথ সম্পাদনা : জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের ‘স্তরভিত্তিক শব্দভাণ্ডার।’ পরিভাষাকোষ (বিজ্ঞান) ২০০৭ বাঙলায় প্রচলিত ইংরেজী শব্দের অভিধান ২০০২ (যৌথ সম্পাদনা)। \'Elementary Structured Texts in Bengali (1996)| জাতীয় গ্রন্থনীতি ১৯৯২ ; শিশু বিশ্বকোষ (যৌথ সম্পাদনা)। পুরস্কার : বাংলাদেশ ন্যাশনাল বুড্ডিস্ট ইয়ুথ ফেডারেশন সম্মাননা ১৯৯৫ ; চট্টগ্রাম সংস্কৃতি পরিষদ সম্মাননা পদক ১৯৯৫ ; রথীন্দ্র সাহিত্য পুরস্কার ১৯৯৫ ; কবি জসীমুদ্দিন সাহিত্য পরিষদ সম্মাননা ; লন্ডন চট্টগ্রাম সমিতি ও বাংলা সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক লন্ডনে সংবর্ধনা প্রদান ১৯৯৭। Monsur Musa, as an ardent student of Modern Linguistics, became interested in Language Planning, Educational Language Corpus Planning, Language treatment and cultivation along with intellectualization of language. His theoretical insights originated from the study of the aspects of socio-historical process of the development of Bengali Language, particularly the external and internal factors that contributed to the development of Standard Colloquial Bengali (SCB), Style-shifting in Bengali and the problems of code elaboration of contemporary Bengali. He has already developed some systemic texts for the foreign learners of Bengali in his Elementary Structured Texts in Bengali and Primary Children’s text books of NCTB. He has a number of research publications on Bengali Language, Education, Culture and Literature. Bengali as Second Language is the result of his experience in teaching Bengali as foreign language and Bengali as first Language. Professor Musa taught Bengali as foreign Language at the Indo-Pacific Language Department, University of Hawaii at Manoa. At present, he teaches at the Institute of Modern Language, University of Dhaka. Bengali, a member of the Indic family of Indo-Aryan group had attracted the attention of European explorers during the Portuguese arrival in Eastern part of the subcontinent. Bengal was considered virtually El Dorado by the Portuguese, the Dutch, the French and the English traders and missionaries. They had tried to learn the language as a Foreign Language. As a consequence, a number of bilingual dictionaries, language learning materials and aids were prepared, subsequently printed and published. During the British period, a huge number of books and dictionaries were made to facilitate the learning of local languages by foreign students-lawyers, administrators, sailors, soldiers, missionaries and translators. These materials were intended to facilitate Bengali as a foreign Language (BFL). After the independence of Bangladesh, the Language need was felt to project the Bengali Language as a second Language, not only for foreigners but also for the neighbours, such as SAARC members, second generation expatriate Bengali and other Asian people, all the more, for the ethnic minorities of Bangladesh. This is for the first time Bengali as second Language has been projected by a competent language teacher, a long time teacher and facilitator of Bengali Language at home and abroad.